দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গ্রিনল্যান্ডে ব্যাপক পরিসরে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ব্যাপক তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আহরণের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ডে সহজে উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুত বিশ্বের প্রায় যেকোনো ভূখণ্ডের তুলনায় অনেক বেশি।
হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর থেকেই ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কিংবা সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে বারবার হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তাঁর এসব বক্তব্যে ইউরোপের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ন্যাটো অংশীদারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তবে গবেষকেরা আগেই সতর্ক করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদ উত্তোলন অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল হতে পারে। দ্বীপটির অনেক খনিজের মজুত দুর্গম এলাকায়, আর্কটিক সার্কেলের ওপারে অবস্থিত। এসব এলাকার ওপর প্রায় এক মাইল পুরু বরফের স্তর রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮০ শতাংশই বরফে ঢাকা।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই সমঝোতাকে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
তবে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সমঝোতার নথিতে শুরুতেই ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নথিতে তেল ও গ্যাসের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। তবে খনিজ সম্পদ নিয়ে সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
সমঝোতায় ১৯৫১ সালের একটি চুক্তিতে সীমিত পরিবর্তনের কথা রয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের অনুমতি রয়েছে। নতুন সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পথও তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে।
বুধবারের পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যেকোনো হামলা গ্রিনল্যান্ডের দিক দিয়েই আসতে হবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে এমন যেকোনো অস্ত্র ধ্বংস করবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গ্রিনল্যান্ড সরকার এবং দেশটির খনিজ সম্পদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/